বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ টানা ২৯ দিনের ছাত্র আন্দোলনের পর বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অপসারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেকারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দিবাগত রাত দশটার দিকে আনন্দ মিছিল করেছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম কাসেম সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ববি সূত্রে জানা গেছে, একইসাথে ববি’র প্রোভিসি ও ট্রেজারারকে অপসারন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন উপাচার্য নিয়োগের আগ পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও ববি’র আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সুজয় শুভ নিশ্চিত করেছেন।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে এ সংক্রান্ত কোন প্রজ্ঞাপনের কপি মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত দশটা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ দিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ২২ দফা পরে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন, উপাচার্যের বাসভবনে তালা ও একাডেমিক শাটডাউন করা হয়। সবশেষ ১২ মে রাত এগারোটা থেকে আমরণ অনশন ও ১৩ মে বিকেল থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণের দাবিতে গতকাল সোমবার ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিয়ে দক্ষিণবঙ্গ অচল করার হুশিয়ারি দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯ টায় এক সংবাদ সম্মেলন করে অনশনের ঘোষণা দেয় এবং রাত সাড়ে ১১ টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচে আমরণ অনশনে বসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গত ১২ মে রাত ১০টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরণ অনশন শুরুর ঘোষণা দেয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের একটি অংশ। প্রায় ১৩ ঘন্টা অনশন চালাকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে পড়লে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং একজন শিক্ষার্থীকে বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় ভিসির অপসারনের খবরে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায় তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে।







