কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণ করে ইতিহাস গড়েন, আবার কেউ নিজের অপূর্ণ স্বপ্নকে হাজারো মানুষের সফলতার সিঁড়িতে রূপ দেন। জুয়েল অপূর্ব সেই দ্বিতীয় পথের একজন পথিক। অভিনয়, নাচ, গান ও মিডিয়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজ তিনি বেশি পরিচিত নতুন মুখদের স্বপ্ন পূরণের কারিগর হিসেবে।
খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছোটবেলা থেকেই বেড়ে ওঠা জুয়েল অপূর্বের মিডিয়া যাত্রা শুরু হয় কচিকাঁচার মেলা, বেতার, অভিনয় ও নৃত্যচর্চার মধ্য দিয়ে। শিশু বয়সেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে মিডিয়ায় কাজের চেষ্টা করলেও বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে বারবার থমকে যেতে হয়।
তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নিজের অপূর্ণ স্বপ্নকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি গড়ে তোলেন ‘স্বপ্নছোঁয়া’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মডেলিং, উপস্থাপনা, নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন তিনি।
জুয়েল অপূর্ব বলেন, “আমি হয়তো নিজেকে বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। কিন্তু আজ আমার হাত ধরে যারা মিডিয়ায় ভালো করছে, তাদের সফলতা দেখেই আমি নিজের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে মনে করি।”
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত রয়েছে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে নাটক, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও ও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত কাজ করছেন। নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর কৌশল শেখানো এবং পেশাদার মিডিয়া পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করানোই তাঁর প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
পেশাগতভাবে জুয়েল অপূর্ব একজন ফ্যাশন ডিজাইনারও। তাঁর মতে, ফ্যাশন ডিজাইনের অভিজ্ঞতা মডেল গ্রুমিং ও মিডিয়া স্টাইলিংয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই তিনি শুধু একজন প্রশিক্ষক নন, একজন পরিপূর্ণ গ্রুমার হিসেবেও কাজ করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও তিনি জানান, কাজই তাঁর প্রথম ভালোবাসা। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর ভাষায়, “যতটা সময় মানুষ ভালোবাসার জন্য ব্যয় করে, আমি তার চেয়েও বেশি সময় আমার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যয় করি।
মিডিয়া জগত নিয়ে প্রচলিত নানা নেতিবাচক ধারণারও বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর দাবি, নিজের প্রতিষ্ঠানে তিনি পারিবারিক পরিবেশ বজায় রেখে কাজ করেন। নারী-পুরুষ সবাইকে সমান মর্যাদা দিয়ে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁর অঙ্গীকার।
আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়েও আশাবাদী জুয়েল অপূর্ব। তিনি জানান, ‘স্বপ্ন’ ব্যানারে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক বিউটি কনটেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের নতুন প্রতিভাবানদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তরুণদের উদ্দেশে জুয়েল অপূর্বের বার্তা ছিল স্পষ্ট— “স্বপ্ন দেখতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে এবং শর্টকাটের পথে নয়, যোগ্যতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। সাফল্য একদিন অবশ্যই ধরা দেবে।”
নিজের নামের আগে ‘স্বপ্নবাজ’ শব্দটি হয়তো তিনি নিজে বেছে নেননি, কিন্তু নতুন প্রজন্মের অসংখ্য স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সত্যিই হয়ে উঠেছেন একজন স্বপ্ন নির্মাতা।
গণমাধ্যম, দেশজুড়ে, বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, বিনোদন, মেইন লিড, শিরোনাম, সাব-লিড






