পাকিস্তানের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিনিয়োগ প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।পাকিস্তানের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে অপরাধী শনাক্ত এবং আন্তঃদেশীয় হুমকি মোকাবেলায় অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিনিয়োগ প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শনিবার (২ মে) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিকিউরিপোর্ট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এই প্রস্তাবের পক্ষে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়ে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন।
এই প্রকল্পের আওতায় বিমান আকাশে ওড়ার আগেই প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীর পাসপোর্ট ও টিকিটের বিস্তারিত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় যাত্রীদের আগাম তথ্য বা ‘এপিআই’ ও নাম-ঠিকানার রেকর্ড বা ‘পিএনআর’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ফলে কোনো অপরাধী বা আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পার হতে পাঁচ মিনিটের বদলে মাত্র ৪৫ সেকেন্ড সময় লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। চুক্তির ২৫ বছর মেয়াদে ধাপে ধাপে এই অর্থ উঠে আসবে।
মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই প্রযুক্তির পেছনে প্রয়োজনীয় সব প্রাথমিক খরচ নিজেরাই বহন করবে। বিনিময়ে সরকারি নিয়ম মেনে যাত্রীদের ওপর সামান্য অর্থ আরোপ করে দীর্ঘমেয়াদে সেই খরচ তুলে নেবে।
প্রকল্পটির আওতায় পাকিস্তানে একটি সহায়ক সংস্থা খোলা হবে, যেখানে এক হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। পাকিস্তান সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্তের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ দেশটির হাতেই থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি (এফআইএ) এ পুরো ব্যবস্থাটি পরিচালনা করবে।
এর আগে, পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে এই ব্যবস্থা করতে চাইলেও কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে পাকিস্তানের সিনেটে প্রশ্ন ওঠে। তাছাড়া এই কাজে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে সরাসরি কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আপত্তি জানিয়েছিল, ঠিক এমন সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশাল এই বিনিয়োগের সঙ্কেত আসল।
তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আইন-আদালত, আন্তর্জাতিক, গণমাধ্যম, দেশজুড়ে, বরিশাল বিভাগ, মেইন লিড, রাজনীতি, শিরোনাম, সাব-লিড






