পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার সৌদি আরবে সরকারি সফরে জেদ্দায় পৌঁছে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত ছিলেন। তিনি আলাদাভাবে এক্সে এক পোস্টে বলেন, বৈঠকে উষ্ণতা, ভ্রাতৃত্ব এবং শক্তিশালী পাকিস্তান-সৌদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান ছিল। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ইসহাক দার আরও বলেন, সৌদি আরব পাকিস্তানিদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমরা এই ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে পিএমও’র এক্সে পোস্টে জানানো হয়, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মুশআল বিন আবদুলআজিজ, পাকিস্তানে সৌদি রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সাঈদ আল-মালকি এবং সৌদি আরবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আহমদ ফারুক।
জেদ্দা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সৌদি নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানানো হয়। এসব বৈঠকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হবে। পিএমও জানায়, প্রতিনিধি দলে ইসহাক দার ছাড়াও তথ্য প্রতিমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলসহ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সৌদি আরব ও কাতার সফর হবে দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে এবং সেখানে দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতা ও আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
তুরস্কে তিনি পঞ্চম আনতালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশ নেবেন এবং বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে লিডারস প্যানেলে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ফোরামের ফাঁকে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব সম্প্রতি ইরানি হামলার মুখে পড়েছে। তেহরান বলছে এটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে তাদের পাল্টা জবাব। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করে। যার ফলে একটি নাজুক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনা শুরু হয়। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ চলমান উত্তেজনার সময় অসাধারণ সংযম দেখানোর জন্য সৌদি আরবের প্রশংসা করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেন।
৯ মার্চ তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একটি সীমিত বৈঠক করেন। সেখানে পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। উভয় নেতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন। পাকিস্তান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে একটি বহুমাত্রিক সম্পর্ক শেয়ার করে আসছে, যা কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং অভিন্ন ইসলামী ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিক সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত। রিয়াদ ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা ও তেলের উৎস।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব পাকিস্তানের জন্য অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার আমানত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বিদ্যমান ৫ বিলিয়ন ডলারের সুবিধার মেয়াদ আরও তিন বছরের জন্য বাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আগের মতো প্রতি বছর নবায়নের শর্তে না রেখে ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানত এবার দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানো হয়েছে। ১১ এপ্রিল সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সেখানে বলা হয়, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।







