মোঃ মেহেদী হাসান
বরিশালে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা ডেভিল ব্রেথ ব্যবহার করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ লুটের ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। গ্রেপ্তারকৃতের নাম নাসির গাজী (৩৭)। তিনি পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রহিম গাজীর ছেলে।
র্যাব-৮ সূত্র জানায়, বুধবার ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে র্যাব-৮-এর সদর কোম্পানি এবং সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর বাজার এলাকা থেকে নাসির গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি র্যাব-৮ সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত ই-মেইল বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ধান গবেষণা রোড ও জিয়া নগরের মধ্যবর্তী পুরাতন কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী এস. তাহমিনা ডেইজী ফজরের নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে সালাম দিয়ে ‘মা’ সম্বোধন করে সাহায্যের কথা বলে কাছে আসে। একপর্যায়ে তারা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পাউডার মিশ্রিত রুমাল তার নাকে ধরে শ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে তাকে হিপনোটাইজ করে।
পরবর্তীতে হিপনোটাইজ অবস্থায় ভুক্তভোগী নিজ বাসায় প্রবেশ করে আলমিরিতে সংরক্ষিত আনুমানিক ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অজ্ঞাতনামা চক্রের হাতে তুলে দেন।
কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। পরে ভুক্তভোগীর ছেলে মোঃ তানভীর আহমেদ (২৭) বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে নিশ্চিত হন যে, গ্রেপ্তারকৃত নাসির গাজীর নেতৃত্বেই উক্ত স্বর্ণ লুটের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮-এর অধিনায়কের বরাবর আবেদন করা হলে র্যাব-৮ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নাসির গাজীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত নাসির গাজীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নগরবাসীকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
গণমাধ্যম, দেশজুড়ে, বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, মেইন লিড, শিরোনাম, সাব-লিড






